চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বজুড়ে বিক্রি হওয়া হিউম্যানয়েড রোবটের ৯৭ শতাংশের বেশি এসেছে চীনের নির্মাতাদের কাছ থেকে। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় চীনা কোম্পানিগুলো অনেক বেশি রোবট সরবরাহ বা বিক্রি করেছে। খবর চায়না ডেইলি।
শিল্পবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্মার্ট অ্যানালিটিকস গ্লোবালের (এসএজি) তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৯ হাজার ১০০টি হিউম্যানয়েড রোবট বিক্রি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ হাজার ১০০। এক বছরের ব্যবধানে সরবরাহ বেড়েছে তিন গুণের বেশি।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি ধারণা করছে, চলতি বছর বিশ্বজুড়ে হিউম্যানয়েড রোবটের সরবরাহ প্রায় ৬০ হাজার ইউনিটে পৌঁছতে পারে। ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা পাঁচ লাখে উন্নীত হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
বাজারে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে চীনের দুটি প্রতিষ্ঠান। সাংহাইভিত্তিক অ্যাজিবট প্রথমবারের মতো বাজার হিস্যায় শীর্ষস্থান দখল করেছে। বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৮ হাজার ৪০০টি রোবট সরবরাহ করেছে। বৈশ্বিক সরবরাহের হিসাবে কোম্পানির বাজার হিস্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪ শতাংশ।
এর পরেই রয়েছে হাংচৌভিত্তিক ইউনিট্রি রোবোটিকস। প্রতিষ্ঠানটি একই সময়ে প্রায় ৫ হাজার ৯০০টি হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহ করেছে। চীনের এ দুই কোম্পানির সরবরাহের পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় নির্মাতাদের তুলনায় অনেক বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রে হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির ক্ষেত্রে টেসলা, ফিগার এআই ও অ্যাজিলিটি রোবোটিকসের মতো প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তবে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের সরবরাহে এসব কোম্পানি চীনের শীর্ষ নির্মাতাদের তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
এদিকে হিউম্যানয়েড রোবট নিয়ে দুই দেশের প্রতিযোগিতা প্রযুক্তির পাশাপাশি বাণিজ্য ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়ছে। জুলাইয়ের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন চীনা হিউম্যানয়েড ও চার পায়ের রোবট আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। কিছু রোবটের যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রেও এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য। গুরুত্বপূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোর জাতীয় নিরাপত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুসারে, উন্নতমানের রোবট আমদানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞাটি প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে রয়েছে হিউম্যানয়েড রোবট ও চার পায়ের রোবট।
তবে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে হিউম্যানয়েড রোবটের প্রকৃত ব্যবহার এখনো সীমিত। অনেক রোবট এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। তার পরও চীনে সরকারি নীতি সহায়তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারের অর্থায়ন এ খাতের বিকাশকে দ্রুত এগিয়ে দিচ্ছে।
চীনে হিউম্যানয়েড রোবটকে অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়টি সম্প্রতি সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড এআই কনফারেন্সেও দেখা গেছে।
সেখানে কয়েকটি রোবট নির্মাতা নতুন প্রযুক্তি ও সক্ষমতা তুলে ধরে। রোবটের হাতের কাজের দক্ষতা, গতি এবং বিভিন্ন ধরনের কাজ করার সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে নতুন অগ্রগতি দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।
হিউম্যানয়েড রোবটের ব্যবহারেও পরিবর্তন আসছে। আগে এসব রোবটের বড় অংশ গবেষণা, প্রদর্শনী বা পরীক্ষামূলক কাজে ব্যবহার হতো। এখন শিল্প ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার বাড়ছে।
এসএজির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান গবেষক লিন্ডা সুই বলেন, ‘চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সরবরাহ হওয়া হিউম্যানয়েড রোবটের ৭০ শতাংশের বেশি শিল্প ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের জন্য গেছে। এক বছর আগে এ হার ছিল প্রায় ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ হিউম্যানয়েড রোবটের বাজার এখন শুধু প্রযুক্তি প্রদর্শনের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। কারখানা ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক কাজে এর ব্যবহার বাড়ছে। এতে ভবিষ্যতে রোবটের চাহিদা আরো বাড়তে পারে।’
খাতটির সামনে ঝুঁকিও রয়েছে। নীতিমালা নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা হিউম্যানয়েড রোবট শিল্পের পরবর্তী প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা বাড়তে থাকলে রোবট ও এর যন্ত্রাংশের বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন পরিবর্তন আসতে পারে।